বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে জাতীয় সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার নিখোঁজ হওয়া, উদ্ধার এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর জিসানকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট সংক্রান্ত মামলার বিষয়েও সংসদকে অবহিত করেন তিনি।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রচার করা হয়েছিল এবং বিভিন্নভাবে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর সেটি জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করেই সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আপত্তি জানান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও জিসানের প্রসঙ্গ সংসদে তোলার সমালোচনা করেন।
তাহের বলেন, বিষয়টি এখনও বিতর্কিত এবং তদন্তাধীন। এ ধরনের একটি বিষয় সংসদে উত্থাপন করা উচিত হয়নি। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিসান কিংবা অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য সরাসরি শোনার সুযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আগেই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। এ কারণে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার অথবা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে কিছু সময় উত্তপ্ত আলোচনা হয় এবং বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।