মস্কোয় ইউক্রেনের বৃহত্তম ড্রোন হামলা, আহত অন্তত ১৭

লেখক: বার্তাপথ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে
ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এবার সবচেয়ে বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। মস্কো অঞ্চলে একযোগে প্রায় ২০০টি ড্রোন আঘাত হানলে রাজধানীর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের প্রায় এক হাজার ড্রোন এবং চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল সংরক্ষণাগারে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো অঞ্চলে চালানো এ হামলাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘপাল্লার প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে এবং রাশিয়াকেই কূটনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

জেলেনস্কির দাবি, গত সপ্তাহে কিয়েভে রুশ হামলার জবাব হিসেবেই এই ব্যাপক ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে। ওই হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা আগুনে পুড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এই যুদ্ধ চাই না এবং কখনও চাইনি। কিন্তু যদি ইউক্রেন জ্বলে, তাহলে মস্কোও জ্বলবে।”

হামলার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর কাপোতনিয়া তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। এক মাসের মধ্যে এটি তৃতীয়বার এবং এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার হামলার শিকার হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি বিশাল তেল ট্যাংকের ঢাকনা আকাশে উড়ে যেতে দেখা যায়।

এ ছাড়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি শপিং সেন্টারেও আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি আবাসিক বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় মস্কোর চারটি বিমানবন্দর। এতে ৫০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

রাশিয়ায় ড্রোন হামলার পরবর্তী দৃশ্য প্রকাশে সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মস্কোর উপকণ্ঠে ড্রোন উড্ডয়ন ও বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমানে কাজানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। হামলার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, একই রাতে রাশিয়াও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ২০০টির বেশি ড্রোন এবং একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।